বুধবার, ১৮ অক্টোবর, ২০১৭

বিরল সংবিত্তি : মোহাম্মাদ সাজ্জাদ হোসাইন


কখনো কি নিজের নামটার জটিল অর্থ বোঝার চেষ্টা করেছো তুমি?
কোহিনূর হীরার মতো বিরল তোমার নাম, মূল্যে নয় শুধু নামে।।

পৃথিবীতে যা কিছু মহিমাময়, দামি তার সব কিছুই আজ বিরল প্রায়,
ঠিক তোমার নামেরই মতো,

কিছু হারিয়ে গেলে বা দূরে সরে গেলে কি তার টান বেড়ে যায়?
হয়তোবা যায়, অথবা নয়, যদিও আমি বিরলতা খুজে পেয়েছি তোমারই মাঝে।

কখনো কি নিবিড়ভাবে শীতের শুরুতে শুভ্র কুয়াশা খেয়াল করেছো?
গ্রীষ্মের তপ্ততা শেষে স্নিগ্ধতার এ কুয়াশাও বছরান্তে বিরল হয়ে যায়।

বিরল্প্রায় সব বস্তুই বুঝিবা কোন এক সময় মূল্যবান হয়,
তুমিও কি ঠিক সে কারনেই কারনেই কালের বিবর্তনে আমার কাছে মূল্যবান?

 
কখনো কি নিবিড়ভাবে ভেবে দেখেছো তোমার মুখের শ্রুতিমধুর কণ্ঠস্বরের কথা?
আধো আধো অস্ফুট মধুর ধ্বনির মধ্যে কতইনা মাধুর্যটা ছড়িয়ে আছে,
হয়তোবা কখনো এমনিভাবে ভেবে দেখনি তুমি,
কেননা জগতের প্রায় সকল কিছুই তোমার কাছে তাচ্ছিল্যময় ।

কখনো কি নিবিড়ভাবে বৃষ্টির শব্দ শুনেছ তুমি?
অঝোরধারায় পুনঃ পুনঃ বর্ষণেও কেমন যেন কলধ্বনি রয়েছে ,
কিন্তু এই অঝোর ধারার বৃষ্টিও শীতের কাঁপুনিতে থিতু হয়ে যায়,
ঠিক তোমার নামের এ মত বিরল হয়ে।

কখনো কি নিবিড়ভাবে ক্যান্সার আক্রান্ত রোগীর কথা ভেবে দেখেছো?
একান্ত সুনিশ্চিত মৃত্যু তার দুয়ারে দাঁড়ানো,
কালের গহবরে সেও বিরল হয়ে যাবে খুব তারাতারিই,
তার বেঁচে থাকার ইচ্ছা শুধুমাত্র বেখেয়ালি মানুষিক সান্ত্বনা।

তুমিও আমার কাছে ক্যান্সার আক্রান্ত রোগীর বেখেয়ালি মানুষিক সান্ত্বনার মতো,
অপেক্ষা শুধু বিরল হয়ে যাবার।


 কপিরাইট @ মোহাম্মাদ সাজ্জাদ হোসাইন 
 ১৯/১০/২০১৭ ইং তারিখ ১ঃ১১ টায় মধ্য রাতে লিখিত।

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন