রবিবার, ১৬ এপ্রিল, ২০১৭

বোবা কবিতা : মোহাম্মাদ সাজ্জাদ হোসাইন

বোবা কবিতাগুলি লিখে আর কি হবে?
কবিতা তো আর কথা বলতে পারেনা,
হাসতে বললে হাসে না, কাঁদতে বললে কাদেনা
তাহলে কি হবে এই বোবা কবিতা লিখে?


কেউ কেউ লিখে ভালবাসার কবিতা আর কেউ লিখে কষ্টের
কিন্তু বোবা কবিতাগুলো এসবের কিছুই বুঝেনা,
যেদিন কবিতার বসন্তের ফুল ফুটল,
সেদিনও কবিতারা কিছু বুঝল না,
আর যেদিন শিতের আগে গাছের সব পাতা ঝরে গেল,
সেদিনও কবিতাগুলি বোবাই রইল।


যেদিন শরতের প্রথম শিউলি ফুল ফুটল,
সেদিনও তারা ছিল চুপ, আর বোবা।
আর যখন চৈত্রর ঝরে সব উরে গেল,
তখনও কিছু বুঝলনা বোবা কবিতাগুলি,
শুধু নিরবই থেকে গেল।


কি আর হবে এই বোবা কবিতা লিখে?
কবিতাগুলুও যেন প্রেয়সীর মত অবুঝ,
নিশ্চুপ শুধু প্রেমের দিবসে।



০২/০৮/২০১৫ ইং তারিখে লিখিত।

কপিরাইট @ মোহাম্মাদ সাজ্জাদ হোসাইন

বৃহস্পতিবার, ১৩ এপ্রিল, ২০১৭

সুখ : অসীম চন্দ্র সূত্রধর

আজ মোর মনে পৃথিবীর সনে নাহি কোন খেদ, বিদায়ের বেলা নহে মন ভোলা, মানে নাকো ভেদ। 
ছোট বড় সবে সম তার ভবে গুরুজীরা বলে, 
বর্ণ ভেদ প্রথা নাহি আছে সেথা নিজ মতো চলে; নাহি সেথা দুখ সুখ আর সুখ পুরাণেতে বলে।
 স্বর্গ হতে নামি আসিয়াছি আমি মোরে যদি বলে, যাবে কি সেথায়, থাকি অমরায় স্বর্গের ধাম? বলিব তাহারে দেবতা তোমারে জানাই প্রণাম। সেথা পূণ্য স্থান হরি গুণগান হয় সর্বদাই, এমন স্থানে কে না বলে মনে যেতে আমি চাই; তবু ক্ষম মোরে আজি পৃথ্বীরে ছেড়ে যদি যাই, প্রিয়া মোর এথা যদি পায় ব্যথা তাহাতে ডরাই। ভালবাসি যারে তারে আমি ছেড়ে, 
স্বর্গের সুখ 
নাহি ভাবি মনে, বলি মোর গানে পাই যদি দুখ, তবু ক্ষেদ নাই ;স্বর্গ সুখ পাই প্রিয়ার হাসিতে; 
তার মুখ হেরি দুঃখ ভুলিতে পারি এক নিমিষেতে। 
 
১৭-০৩-২০১৩ ইং তারিখে লিখিত।

কপিরাইট @  অসীম চন্দ্র সূত্রধর

ডাক-নাম: শামসুন্নাহার আক্তার

গভীর রাতে স্বপ্নরা বড্ড বেশি বেপরোয়া,
রাতের স্নেহশীল পরশে যেন মায়ামাখা খেলা ৷
রোদেলা দুপুরে নিভৃত আর্তনাদের মলিন রেখা,
অবহেলায় বের হয় মান-অভিমানের কথামালা ৷
আমি আলোতে থাকি আঁধার হয়ে নিশ্চুপ,
তোমার ঘরে সন্ধ্যা দুপুর সারিয়ে নেই মনের অসুখ ৷
আমি আর প্লাবন দেখিনা,যতই হোক বৃষ্টি,ঝড় সুনামি জীবন চলছে মৃত্যুর দিকে,
হারিয়ে ফেলেছি আছে যত দুঃখের কাহিনী ৷
আমি যেন আঁধারের ফেরার দিনের মুসাফির,
দোষের সব ভাগ নিয়ে লাগছে অস্থির ৷
আমি তো ছিলাম ডোবায় তুষ্ট,দেখাও নি অসীম সাগর ,
চারদিকে দিয়েছো বাঁধ দেখিনি জলের স্রোত ৷
আজ ভীষন একাকি রেখে তোমার ঝলমলে উপস্থিতি,
গভীর ভালোবাসায় টলমল করে কেন দুটি আঁখি ৷
উদাসীন হয়ে ফিরে তাকিয়ে দেখি আমি ,
কাঠকয়লা লেখা আমার ডাক-নামটি ৷
ভাবনার অদূরে নীল-পেয়ালা এখন ডুবে থাকে অবিরত মন,
অনুভব করি যখন রক্তে শিহরনে কেমন জানি করে উদাসী মন ৷


১৩/০১/২০১৭ইং তারিখে লিখিত।

কপিরাইট @ শামসুন্নাহার আক্তার

মঙ্গলবার, ১১ এপ্রিল, ২০১৭

অপেক্ষা করে যাই : মোহাম্মাদ সাজ্জাদ হোসাইন

আমি তোমার জন্য অপেক্ষা করে যাই ,
যেমনটি করে ভোরের শিশির, সূর্যের তাপে নিজেকে বিলিয়ে দেবার জন্য।
আর নিজের সর্বস্ব বিসর্জন দিতে চায় সূর্যের তরে,
তেমনি আমি তোমার জন্য অপেক্ষা করে যাই।

আমি তোমার জন্য অপেক্ষা করে যাই,
যেমনটি করে মেঘ, বৃষ্টির স্পর্শ পেতে,
আর নিজেকে উৎসর্গ করে বৃষ্টির ফোটায় ফোটায়,
আমি তেমনি করে তোমার জন্য অপেক্ষা করে যাই।

আমি তোমার জন্য অপেক্ষা করে যাই ,
যেমনটি করে নদী, জোয়ারের সময়ের জন্য,
প্রবল স্রোতে এক প্রান্তের বালি যেমন অপর পারে মেশার অপেক্ষায় থাকে,
আমি তেমনি তোমার জন্য অপেক্ষা করে যাই।

আমি তোমার জন্য অপেক্ষা করে যাই ,
যেমনটি করে ক্লান্ত দুপুর, গোধূলির স্পর্শ পেতে,
আর আনন্দে বিহব্বল হয়ে পড়ে নিজেকে গোধূলির তরে সপে দেয়ার জন্য,
সেই ক্লান্ত দুপুরের মত আমিও তোমার জন্য অপেক্ষা করে যাই।

আমি তোমার জন্য অপেক্ষা করে যাই,
যেমনটি করে ধরনী, নব বর্ষার জন্য,
আর ধরণীর প্রতিটি অংশ যেমন  অপেক্ষা করে নব বর্ষার ছোঁয়ায় সিক্ত হতে,
তেমনি আমি তোমার জন্য অপেক্ষা করে যাই।

আমি তোমার জন্য অপেক্ষা করে যাই,

যেমনটি করে বৃষ্টিস্নাত দিন, সন্ধ্যার তরে নিজেকে লুটিয়ে দিতে,
আর সন্ধ্যাও তাকে পরম মমতায় আপন করে নেয়,
আমি তেমনি আমি তোমার জন্য অপেক্ষা করে যাই


আমি তোমার জন্য অপেক্ষা করে যাই,
যেমনটি করে রাতের আঁধার, সকালের আলোর জন্য,
কিন্তু রাতের কালো আঁধার সে যেন আর শেষই হতে চায়না,
তবু আমি তোমার জন্য অপেক্ষা করে যাই।


০৩/০৬/২০১৫ ইং তারিখে লিখিত।


 copyright @  মোহাম্মাদ সাজ্জাদ হোসাইন

সোমবার, ১০ এপ্রিল, ২০১৭

"বৃথা আলাপ" : অসীম চন্দ্র সূত্রধর

বৃথা আলাপ 
ক্ষণেক দাঁড়াও পথিক কোথা যাচ্ছ ধেয়ে,
তিষ্ট তুমি ক্ষণকাল এই তরু ছায়ে।
ডানে বামে দেখছ তুমি বারেক ফিরে ফিরে, কখনো বা তুমি আবার আসিতেছ ঘুরে; 
কোন দেশেতে যাবে তুমি, কী বা তাহার নাম, চিন কি সে ধাম তুমি যেথা চলছ অবিরাম? ক্ষণেক ভাবিয়া পথিক বলে সে যে একা, বিন্দু বিন্দু ঘর্মরেখা ভালে যায় দেখা। যে পথেতে চলছি আমি নাই যে তার শেষ, মধ্যাহ্নে ধরেছি পথ যদি না পাই দেশ। নাম জানি নে ধাম চিনি নে যেথা আমি যাব; অজানা সেই দেশ কি আমি কোথাও খুঁজে পাব? পথের যারা পথিক ছিল তারা গেছে চলে, অজানা রহস্য মাঝে আমায় তারা ফেলে। হে বন্ধুবর, তুমি বলো সেথা যাবার উপায়; অকূল এই বিশ্ব মাঝে আমি যে নিরুপায়। জ্ঞানেশ কহে প্রিয়তম যাবে যেথায় তুমি, দেখতে কেমন তার আকাশ বাতাস ভূমি? 
সেথায় কারা থাকেন বলো আমায়, 
পথ চিনিয়ে নিয়ে যাব সেথা তোমায়। 
ভেবে চিন্তে করো তুমি সে ধামের বর্ণন, 
তবেই তুমি করতে পারবে সেথা গমন। 
একবারে না পারতো যদি ভাব ক্ষণে ক্ষণে, 
এখন তুমি তিষ্ঠ এই নির্জন ভুবনে।
সেথায় আছে ষড়ঋতু চারদিকে ছাওয়া, 
ইচ্ছে হলেই যায় গো সেথা অধরাকে ধরা। 
ডালে ডালে পাখি ডাকে বৃন্তে বৃন্তে ফুল, 
ভ্রুমর গাহে গান পল্লব বাজায় ঢুল। 
বাতাস বহে মন্দ সাথে মধুর গন্ধ, 
শাবক বৈরী বাঘে সেথা নাইকো কোন দ্বন্দ্ব। 
সেথায় থাকে কবি, কাব্যে যারা আঁকে ছবি; 
কথা আমার মোটেই অগো নহে আজগবি।
সেথায় যেতে বহু সাধ জেগেছে মোর মনে, 
তুমি কি আমায় নিয়ে যাবে আপন সনে?
 মনেতে নাই গো মোর সেথা থাকিবার আশা, 
দেখিব শুধু এক পলক কেমন তাদের বাসা; 
কিভাবে আছেন সেথা হাজার গুণীজনে, 
আমায় কি বরণ করে নিবে তাদের সনে। 
বৃথা আলাপ ওহে জ্ঞানী মনে হচ্ছে এবে, 
পরকালে কি পারব ওগো যেতে সেই ভবে?



 -------------------------------------------
 ০৬-০৭-২০১৩

copyright @ অসীম চন্দ্র সূত্রধর